আমিনপুরে এক রাতেই দুই খুন, আত্মহত্যাও এক যুবকের

বিশেষ প্রতিনিধি : পাবনার বেড়া উপজেলার আমিনপুর থানায় এক রাতেই দুই খুন ও গলায় গামছা পেঁচিয়ে ফাঁস নিয়ে এক যুবকের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২০ মে) রাত নয়টার দিকে উপজেলার আমিনপুর থানাধীন মাস্টিয়া গ্রামে এক ভ্যান চালক মন্টু সেখ (৫৫) কে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এর পূর্বে রাত ৮টার দিকে নগরবাড়ি ঘাটে সিগারেট কেনাকে কেন্দ্র করে স্বদেশ চন্দ্র সাহা (৫০) কে পিটিয়ে হত্যা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অপরদিকে শুক্রবার ভোর রাতে শিমুলিয়া গ্রামে গাছের ডালে গামছা পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেছে রানা আহমেদ (২৫) নামের এক যুবক।
নিহত মন্টু সেখ জাতসাখিনী ইউনিয়নের টাংবাড়ি (মধ্যপাড়া) গ্রামের মৃত সোহরাব শেখের ছেলে। স্বদেশ চন্দ্র সাহা জাতসাখিনী ইউনিয়নের রাজনারায়নপুর গ্রামের মৃত চিত্তরঞ্জন সাহার ছেলে। আত্মহত্যা করা রানা আহমেদ শিমুলিয়া গ্রামের ফজের আলীর ছেলে।
থানা পুলিশ ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, নিহত মন্টুর ভ্যান গাড়ীটি ছিনতাই করতে আসা ছিনতাইকারীদের চিনতে পাড়ায় হয়তোবা তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে মাস্টিয়া গ্রামের ইচের বিলের পাশে তার লাশ দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। শুক্রবার সকালে ভ্যানটি ঘটনাস্থল থেকে ১ কিলোমিটার দূরের ধানের খেতের ভেতর থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।
অপরদিকে বৃহস্পতিবার রাত আটটার দিকে নগরবাড়ি নতুন বাজার এলাকায় স্বদেশ চন্দ্র সাহা’র দোকান থেকে সিগারেট কেনা কে কেন্দ্র করে হালিম মোল্লা (৩২) এর সাথে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে স্বদেশকে কিলঘুষি ও পায়ের স্যান্ডেল দিয়ে পিটাতে থাকে। এ ঘটনার এক পর্যায়ে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হালিম মোল্লা পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা জানান, স্বদেশ শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। কিল-ঘুষিতে স্ট্রোক করে তার মৃত্যু হতে পারে বলে তাদের ধারণা। নিহত স্বদেশ জাতসাখিনী ইউনিয়নের রাজনায়নপুর গ্রামের মৃত চিত্তরঞ্জন সাহার ছেলে। আর তার হত্যাকারী হালিম মোল্লা পুরাণভারেঙ্গা ইউনিয়নের চর বোরামারা গ্রামের কাইউম মোল্লার ছেলে।
এদিকে শুক্রবার ভোর রাতে জাতসাখিনী ইউনিয়নের শিমুলিয়া গ্রামে রানা আহমেদ (২৫) নামের এক যুবক গলায় গামছা পেঁচিয়ে আতা গাছের ডালে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে। রানা শিমুলিয়া গ্রামের ফজের আলীর ছেলে। তার পরিবার সূত্রে জানা যায়, রানা সাত-আট মাস আগে বিবাহ করেন। ভোর রাতে তার স্ত্রী তাকে বিছানায় না পেয়ে ঘরের বাইরে বেরুতে গেলে দেখে ঘরের বাইরে থেকে শিকল দেয়া। তার চিৎকারে প্রতিবেশিরা ছুটে এলে দেখে আতা গাছের সাথে রানা ঝুলে আছে। তবে কী কারণে আত্মহত্যা করেছে তা এ খবর লেখা পর্যন্ত জানা যায়নি।
পুলিশ বলছেন, দুইটি হত্যা ও একটি আত্মহত্যার সঠিক কারণ তদন্ত সাপেক্ষে বের করতে আমরা অভিযান অব্যাহত রেখেছি। তিনটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সুজানগর-আমিনপুর পুলিশের সার্কেল মো. ফরহাদ হোসেন, আমিনপুর থানার ওসি মো. রওশন আলী, আমিনপুর থানার ওসি (তদন্ত) মো. তানভীর আহম্মেদ সবুজ, আমিনপুর থানার সেকেন্ড অফিসার মো. শফিকুল আলমসহ থানার অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ ।
হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে আমিনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রওশন আলী তিনটি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহত মন্টু শেখের ছেলে আশরাফুল বাদী হয়ে থানায় অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। আসামীদের সনাক্ত করে অবিলম্বে গ্রেফতার করা হবে। স্বদেশ এর বিষয়ে শুক্রবার এ খবর লেখা পর্যন্ত কোন মামলা হয়নি, তবে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে আসল ঘটনা জানা যাবে। আত্মহত্যা করা রানার লাশও শুক্রবার দুপুরে উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জানান।

Related Articles

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Next News BD Powered By : Code Next IT