এন্ড্রু কিশোরের আরেকটি চাওয়াও পূরণ হচ্ছে

প্রিয় জন্মভূমি রাজশাহীতেই শেষ নিঃশ্বাসটুকু নিতে চেয়েছিলেন কিংবদন্তী কণ্ঠশিল্পী এন্ড্রু কিশোর। জীবনের শেষ কয়েকটা দিন ছিলেন রাজশাহীতেই। মৃত্যুর পর কোথায় সমাহিত হবেন, সেই জায়গাটিও দেখিয়ে গিয়েছিলেন নিজে। তাঁর পছন্দের জায়গাতেই হয়েছে সমাধি।

কিন্তু তাঁর আরেকটি চাওয়া ছিলো অপূর্ণ। বেঁচে থাকতে তিনি চেয়েছিলেন কবরস্থানটির সংস্কার। যে কবরস্থানে তিনি শুয়ে আছেন সেটির রাস্তাটি পাকা করার জন্য জনপ্রতিনিধিদেরও অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু হয়নি। তবে মৃত্যুর এক বছর পর এন্ড্রু কিশোরের সেই চাওয়া পূরণ হচ্ছে।

রাজশাহী সার্কিট হাউস সংলগ্ন খ্রিষ্টানদের কবরস্থানের রাস্তাটি পাকা করতে একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে সিটি করপোরেশন। এছাড়া ওই এলাকায় যেন পানি না জমে তার জন্য ড্রেনও নির্মাণ করা হচ্ছে। ঠিকাদারকে কাজ বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। তিন দিন আগে ড্রেন নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে।

রোববার (৪ জুলাই) সকালে কবরস্থানে গিয়ে দেখা গেছে, প্রবেশের রাস্তাটি বৃষ্টির পানিতে ডুবে আছে। তবে পাশেই ড্রেন নির্মাণের জন্য স্কেভেটর দিয়ে মাটি খননের কাজ শুরু হয়েছে। এন্ড্রু কিশোরের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সেদিন কবরস্থানের ভেতরেও পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছিল।

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নূর ইসলাম তুষার জানান, সার্কিট হাউস রোড থেকে কবরস্থান পর্যন্ত রাস্তাটি পাকা করার জন্য তাঁরা প্রকল্প গ্রহণ করেছেন। সেখানে ড্রেনও নির্মাণ হবে। করোনা মহামারীর কারণে কাজ শুরু হতে দেরি হলেও এখন শুরু হয়েছে। দ্রুতই পুরো কাজ শেষ হবে।

এন্ড্রু কিশোরের বোনজামাই ডা. প্যাট্টিক বিপুল বিশ্বাস বলেন, ‘কবরস্থানের রাস্তাটা করার জন্য কিশোর নিজেই কয়েকবার বলেছিল। কিন্তু তখন হয়নি। কিছু দিন আগে সিটি করপোরেশনের প্রকৌশলীরা আমাকে নিয়ে গিয়ে সবকিছু মাপজোখ করে যান। তারপর করোনার জন্য হয়ত কাজটা হয়নি। এখন আবার শুরু হচ্ছে। কিশোরের এই ইচ্ছাটাও পূরণ হচ্ছে দেখে ভাল লাগছে।’

ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে গত বছরের ৬ জুলাই রাজশাহীতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এন্ড্রু কিশোর। আজ তাঁর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। এ উপলক্ষে বিকালে সিটি চার্চে এবং সমাধিস্থলে প্রার্থনার আয়োজন রয়েছে।

Related Articles

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Next News BD Powered By : Code Next IT