মধ্যরাত থেকে মেসি আর বার্সার নয়

ঘড়ির কাঁটা রাত ১২টা পার হলেই, ফ্রি এজেন্ট হয়ে যাবেন লিওনেল মেসি। অন্তত কাগজে-কলমে আর বার্সেলোনার ফুটবলার থাকবেন না আর্জেন্টাইন সুপারস্টার। ১৭ বছরের পেশাদার ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো এমনটা দেখা যাবে মেসির ক্ষেত্রে।

সবশেষ চুক্তি অনুযায়ী চলতি বছরের জুনের ৩০ তারিখ পর্যন্ত মেসি বার্সেলোনার ফুটবলার। যেহেতু এখন পর্যন্ত নতুন চুক্তি স্বাক্ষর হয় নি, তার মানে আজ মধ্যরাতের পর থেকে তিনি মুক্ত। চাইলেই যে কোন ক্লাবের সঙ্গে আলোচনায় বসতে পারবেন লিও।

গেল মার্চে সভাপতি হিসেবে বার্সায় ফেরার পর থেকে হুয়ান লাপোর্তার ১ নাম্বার লক্ষ্য মেসিকে ক্লাবে ধরে রাখা। তবে ক্লাবের সর্বকালের সেরা ফুটবলারকে এখন পর্যন্ত চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করাতে পারেন নি তিনি।

গত গ্রীষ্মে ক্লাব ছাড়তে চেয়েছিলেন ৬ বারের ব্যালন ডি’অর জয়ী তারকা। সেসময়কার সভাপতি হোসে মারিয়া বার্তোমিউ বরাবর পাঠানো ব্যুরোফ্যাক্সের মাধ্যমে ক্লাব ছাড়ার কথা জানান মেসি। তার এমন সিদ্ধান্তে পুরো ফুটবল দুনিয়ায় তোলপাড় শুরু হয়। পরবর্তীতে চাপে পড়ে বার্তোমিউ পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। তবে চুক্তির বেড়াজালে মেসিকে আটকে রাখতে সক্ষম হয় কাতালানরা।

মেসির ক্লাব ছাড়তে চাওয়ার কারণ ক্লাব সভাপতি লাপোর্তার কাছে পরিষ্কার। মূলত আর্জেন্টাইন সুপারস্টারকে ক্লাবে রাখার ঘোষণা দিয়েই নির্বাচিত হন তিনি। মেসি চেয়েছিলেন একটি উইনিং প্রজেক্ট, যে দলকে নিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের স্বপ্ন দেখা যায় এমন। এরইমধ্যে বার্সেলোনা একে একে দলে ভিড়িয়েছে মেসির ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও আর্জেন্টাইন সতীর্থ সার্জিও অ্যাগুয়েরো, ডাচ তারকা মেম্ফিস ডিপে, এরিক গার্সিয়া ও এমারসনকে। লাপোর্তার এমন পদক্ষেপে মেসিও সন্তুষ্ট বলে জানা গেছে। চুক্তির বিষয়েও লিও ইতিবাচক বলে জানা গেছে।

যাই হোক, লাপোর্তার দায়িত্ব নেয়ার পর ৪ মাস পার হয়েছে। এখন পর্যন্ত চুক্তিপত্রে আর্জেন্টাইন সুপারস্টারের স্বাক্ষর নিতে পারে নি বার্সেলোনা।

মেসি ও তার বাবার সঙ্গে লাপোর্তার সম্পর্ক বেশ ভালো। বার্সার হয়ে যখন অভিষেক হয় তার, তখনও ক্লাব সভাপতি ছিলেন লাপোর্তা। সে হিসেবে দু’জনের সম্পর্কটা বরাবরই বেশ উষ্ণ। দু’জনের নিয়মিতই যোগাযোগ হয় বলেও জানা গেছে। তবে যখনই চুক্তির বিষয় এসেছে, থেমে যেতে হয়েছে। কারণ এখনো বেশকিছু বিষয়ের সমাধান হয় নি বলে জানা গেছে।

তবে কয়েকদিনের মধ্যেই হয়তো সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। লাপোর্তা আশা করছেন, যে কোন মূল্যে ক্লাবের সেরা ফুটবলারকে তিনি ধরে রাখতে সক্ষম হবেন। ফ্রি এজেন্ট হয়ে গেলেও, মেসি অন্য কোন ক্লাবের জার্সি পরবেন না এটুকু ভরসা তিনি দিচ্ছেন সমর্থকদেরকে।

মেসিকে শুধুমাত্র ভালো ফলাফলের জন্য কিংবা তিনি সেরা ফুটবলার সেজন্যেই ধরে রাখতে চায় বার্সা, বিষয়টি এমন নয়। এরসঙ্গে জড়িত আর্থিক বিষয়ও। বেশকিছু কোম্পানি আছে যারা বার্সেলোনায় অর্থ বিনিয়োগ করে শুধুমাত্র মেসির জন্য। পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় অ্যাথলেটদের একজন এই ক্লাবে, সেজন্যেই ক্লাবটিকে তারা স্পন্সর করে। মেসি চলে গেলে করোনার প্রভাবে আর্থিক সংকটে ভোগা বার্সেলোনার পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে। বড়সড় ধরণের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে তারা। তাই তো যে কোন মূল্যে তাকে ধরে রাখতে চায় কাতালানরা।

মাসকয়েক আগে ফাঁস হওয়া তথ্য অনুযায়ী জানা গেছে, সবশেষ চুক্তিতে ৪ বছরে মেসিকে বেতনভাতা বাবদ বার্সা দিয়েছে ৫৫৫ মিলিয়ন ইউরো। অর্থাৎ বছরে ১৩৮ মিলিয়নেরও বেশি। বাংলাদেশি অংকে যেটি প্রায় ১৪৫০ কোটি টাকার মতো! এমন চড়া অংক দেখে চোখ কপালে উঠে যায় সবার। তবে মেসির জন্য এমন অংক খরচ করতে মোটেও হাত কাঁপেনি কাতালানদের।

স্প্যানিশ গণমাধ্যমগুলো বলছে, আজ (৩০ জুন) মধ্যরাতের মধ্যেই যেসব বিষয়ে ঝামেলা আছে, সেসব সমাধান করে ফেলার চেষ্টা করবেন লাপোর্তা। তবে কোপা আমেরিকা খেলতে এই মুহুর্তে ব্রাজিলে থাকা লিওনেল মেসির স্বাক্ষর যে তারা আজকে পাচ্ছে না সেটি নিশ্চিতভাবেই বলা যায়। তার মানে, ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো ফ্রি এজেন্ট হতে হচ্ছে সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলারকে।

২০০৪ সালে প্রথমবার বার্সেলোনার জার্সি গায়ে জড়িয়ে মাঠে নামেন লিও। এখন পর্যন্ত ক্লাবটির হয়ে খেলেছেন ৭৭৮টি ম্যাচ। করেছেন ৬৭২টি গোল। ক্লাবকে জিতিয়েছেন চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, লা লিগাসহ ৩৫টি ট্রফি। নিজেও ব্যালন ডি’অর জিতেছেন রেকর্ড ৬ বার। তাই তো সর্বকালের সেরার তকমা পাওয়া লিওনেল মেসির সঙ্গে এর আগে প্রতিবার চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই চুক্তি নবায়ন করে বার্সা। কিন্তু এবারই হলো ব্যতিক্রম। তার ফলাফলটা এবার দেখার অপেক্ষা।

Related Articles

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Next News BD Powered By : Code Next IT