শিক্ষা বিস্তারে বঙ্গবন্ধুর অবদান ও বর্তমান বাস্তবতা


 

নিজস্ব প্রতিবেদক : শিক্ষা বিস্তারে বঙ্গবন্ধুর অবদান ও বর্তমান বাস্তবতা- শীর্ষক আলোচনা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয় পাবনার কাজীরহাটে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদৎ বার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার (২৮ আগস্ট) বিকেল ৩টায় বেড়া উপজেলার কাজীরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য আহমেদ ফিরোজ কবির এবং প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থেকে আলোচনায় অংশ নেন- পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা-ভিসি প্রফেসর ড. মো. আমিন উদ্দিন মৃধা। কাজীরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. বোরহান উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেম প্রাং এর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বেড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শ্রী অনিল কুমার সাহা, বেড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল হক বাবু, আওয়ামীলীগ নেতা আফজাল হোসেন। শিক্ষায় বঙ্গবন্ধু অবদান নিয়ে আরও বক্তব্য রাখেন-সাতবাড়িয়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল বাসেত বাচ্চু, মাশুন্দিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মিরোজ হোসেন, রুপপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হাশেম উজ্জ্বল, ঢালারচর ইউপি চেয়ারম্যান কোরবান আলী, মাশুন্দিয়া ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান শাহিদুল হক, রুপপুর ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম মোল্লা ও আওয়ামীলীগ নেতা আমিরুল ইসলাম আমিন।
অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা প্রফেসর ড. আমিন উদ্দিন মৃধা বলেন, ১৫ আগস্ট ১৯৭৫। শুধু বাংলাদেশ নয়; সভ্যতার ইতিহাসে নিকৃষ্ট এক কলঙ্কজনক অধ্যায়ের পরিশিষ্ট। এক কঠিন শোকের দিন। মুক্তির মহানায়ক, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গমাতা এবং পরিবারের প্রায় সব সদস্যের শাহাদতবরণের দিন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সংসার সামলানোর পাশাপাশি জাতির পিতার অনেক সময়োচিত রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বঙ্গমাতার পরামর্শ আন্দোলন-সংগ্রামে গতির সঞ্চার করেছিল। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার সহচর হিসেবে বঙ্গমাতা এক হাতে যেমন সংসার সামলেছেন, তেমনি অনেক সময়োচিত রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহযোগিতা করেছেন।

শোকাবহ আগস্টে তাদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন এবং মহান স্রষ্টার দরবারে তাদের আত্মার অফুরন্ত শান্তি প্রার্থনা করছি। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের কদর্য বাস্তবায়নে বঙ্গবন্ধু হত্যার সম্ভবত প্রধান উদ্দেশ্য ছিল পৃথিবীর মানচিত্রে লাল-সবুজের পতাকাবাহী প্রাণবিসর্জন ও ত্যাগের মহিমায় অবিনশ্বর ইতিহাসকে পালটে দিয়ে বাংলাদেশের সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রাকে রুদ্ধ করা।

নির্বোধ ঘাতকচক্র স্বপ্নেও ভাবেনি, বঙ্গবন্ধু কালান্তরে বিশ্বজয়ী নেতার মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হয়ে নিরন্তর বাংলাদেশসহ বিশ্বকে সামগ্রিক উন্নয়ন পরিক্রমায় অকৃত্রিম পথপ্রদর্শকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হবেন। সত্যের কাঠিন্যে আরাধ্য বিচারকাজ সম্পন্ন এবং বিচারের রায় কার্যকর করে বাংলাদেশ প্রমাণ করেছে আইনের শাসনই সভ্য সমাজ প্রতিষ্ঠার অপ্রতিবন্ধ মানদণ্ড।
বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা-মেধা-দূরদর্শিতা এত বিস্তৃত ছিল যে, তার সীমা-পরিসীমা নির্ধারণও বিশেষ বিশ্লেষণ ও গবেষণার দাবি রাখে।

দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে খ্যাতনামা বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা, সাময়িকী এবং খ্যাতিমান সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী ও সম্মানিত রাজনীতিক/রাষ্ট্রনায়কদের মন্তব্য এতই হৃদয়গ্রাহী ও আবেগঘন ছিল যে তা শুধু বাঙালি নয়, বিশ্বের সমগ্র শুভ, মঙ্গল ও কল্যাণকামী বিবেকবান জনগোষ্ঠীকে কাঁদিয়েছে। এ ক্রন্দনধ্বনি এত বেশি সঞ্চারিত ও বহমান যে তা শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করেছে।বঙ্গবন্ধু শুধু বাঙালির বন্ধু ও অধিনায়ক ছিলেন না, তিনি ছিলেন মানবজাতির পথপ্রদর্শক ও মহান নেতা। তাছাড়া বঙ্গবন্ধুর উৎসাহ শুধু রাজনৈতিক স্বাধীনতাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না, তিনি চেয়েছিলেন বহুদলীয় গণতান্ত্রিক সভ্যতা, সার্বজনীন শিক্ষাব্যবস্থা, সব মানুষের মানবাধিকারের স্বীকৃতি। তাঁর সাবলীল চিন্তাধারার সঠিক মূল্য শুধু বাংলাদেশ নয়, সমস্ত পৃথিবীও স্বীকার করবে এ আশা আমাদের আছে এবং থাকবে।অসামান্য সাহসী মহাপুরুষ হিসাবে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা এবং বাঙালি জাতির অধিকার আদায়ের সংগ্রামে বঙ্গবন্ধুর মতো এত আত্মত্যাগ অন্য কারও পক্ষে সম্ভব হয়নি। এ মহান আত্মবিসর্জনে সবচেয় করুণ-হৃদয়বিদারক-গভীর ক্রন্দনের যে বিষয়টি পুরো বিশ্বকে আবেগতাড়িত করে তা হলো অবুঝ-নিষ্পাপ শিশুপুত্র শহিদ শেখ রাসেলের হত্যাকাণ্ড।

বঙ্গবন্ধু একটি নতুন জাতির বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিটি বিষয়কে স্পর্শ করেছেন। আপনি বঙ্গবন্ধের অবদান সম্পর্কে অনেক কিছু জানেন কিন্তু আপনারা অনেকেই জানেন না যে কৃষক এবং কৃষকদের জন্য বঙ্গবন্ধু কী করেছেন। তিনি কৃষি স্নাতকদের প্রথম শ্রেণীর মর্যাদা দিয়েছেন যা দেশের কৃষি উৎপাদনের উন্নয়নে অনেক সাহায্য করে। তিনি কৃষকদের জন্য কৃষি ঋণ সরিয়ে দিয়েছেন। আজ আমরা দেশের সকল মানুষের জন্য পর্যাপ্ত খাবার পাচ্ছি বঙ্গবন্ধুর উদ্যোগে।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের অংশ হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মূল ক্যাম্পাসের গ্রন্থাগারে ‘বঙ্গবন্ধু কর্নার’ স্থাপন করা হয়েছে। আমরা কি আমাদের দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তা করতে পারি না?

বঙ্গবন্ধু এবং অন্যান্য যারা ১৫ আগস্টে তাঁদের জীবন দিয়েছেন তাঁদের আত্মা শান্তি পাবে যদি আমরা দেশের উন্নয়নের জন্য সঠিক কাজ করি।
এখন আমি প্রত্যেকের কাছে আবেদন করতে যাচ্ছি যে, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মায়ের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা জানাতে আমিনপুর থানায় বঙ্গমাতার নামে একটি মহিলা আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করতে চাই। বাংলাদেশে এ ধরনের কোন বিশ্ববিদ্যালয় নেই এবং আমাদের একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য সকল সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। এ বিষয়ে সংসদে প্রস্তাবনা উপস্থাপন করতে পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্যের প্রতি আহবান জানিয়ে প্রধান বক্তা তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।

Related Articles

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Next News BD Powered By : Code Next IT