[১] ঈদের দিনও বাড়ি যাচ্ছেন অনেকে, সড়ক ফাঁকা থাকলেও ভিড় বেড়েছে হাতিরঝিলে

সুজন কৈরী : [২] পবিত্র ঈদুল আযহার দিন রাজধানীর রাস্তাঘাট কঠোর বিধিনিষেধের মতোই ফাঁকা। গণপরিবহন চালু থাকলেও সেগুলোতে যাত্রী কম। এছাড়া পাড়া-মহল্লার অলিগলি থেকে ছোট-বড় সড়ক ও মহাসড়কে মানুষের উপস্থিতিও কম।

[৩] গণপরিবহনসহ রাস্তাঘাটে বের হওয়া যানবাহনগুলোকে দ্রুত গতিতে গন্তব্যে ছুটে যেতে দেখা যায়। রাস্তাঘাটে যানবাহনের সংখ্যা কম হওয়ায় বিভিন্ন পয়েন্টে কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশকে আয়েশী ভঙ্গিতে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়।

[৪] ঈদের দিনও রাজধানী ছেড়েছে অনেক মানুষ। অনেকেই ঈদুল আযহা ও করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে বিধিনিষেধের ছুটি কাটাতে বাড়ি ফিরছেন।

[৫] বুধবার বিকেল থেকে হাতিরঝিলে বেড়েছে দর্শনার্থীদের ভিড়। অনেকেই বন্ধু-বান্ধব ও পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে যান হাতিরঝিলে।

[৬] করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে ১ থেকে ১৪ জুলাই পর্যন্ত সরকার কঠোর বিধিনিষেধ ঘোষণা করে। যা ঈদের কারণে ১৫ জুলাই থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত শিথিল করা হয়।

[৭] বুধবার বিকেলে গাবতলী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালে দেখা যায়, অনেকেই গ্রামে যাওয়ার উদ্দেশে টার্মিনালে ভিড় জমিয়েছেন।

[৮] বাড়ি যেতে রাজধানীর পান্থপথ থেকে গাবতলী আসা আতাহারুল ইসলাম মিলন বলেন, ঈদের আনন্দ পরিবারের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে বিকেলের বাসে যাবেন যশোরের মনিহার। তিনি বলেন, রাজধানীতে পড়াশোনার পাশাপাশি চায়না জুতার ব্যবসা করি। বসুন্ধরা সিটির সামনে আমার জুতার দোকান। মঙ্গলবার ছিলো চাঁদ রাত, এ রাতে অনেক বেচাবিক্রি থাকায় বাড়ি যাওয়া হয়নি। অনেকদিন বাবা-মার সঙ্গে ঈদ করা হয় না। তাই ঈদ করতে বাড়ি যাচ্ছি।

[৯] হাসি রোজারিও নামের একজন নারী বলেন, আমি পাবনা যাবো। এজন্য দুপুরে গাবতলীতে এসেছি। বাসের টিকিটও কেটেছি। কঠোর বিধিনিষেধ ও যানজটের কারণে ঈদের আগে যাইনি। ঈদের দিন সড়কে গাড়ির চাপ কম হবে। তাই আজ যাচ্ছি। এতে দ্রুত সময়ের মধ্যেই বাড়ি পৌঁছে যাবো।

[১০] রেন্ট এ কারে গাড়ি চালানো সোহেল রানা বলেন, সন্তান আর বাবা-মার সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা যাচ্ছেন। রেন্ট এ কারের গাড়ি চালানোর কারণে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মিরপুর ১২ নম্বর থেকে ট্রিপ নিয়ে সিরাগঞ্জ গিয়েছিলেন। কিন্তু সড়কে প্রচণ্ড যানজট থাকায় বুধবার পৌঁছান বুধবার সকাল ৭টায়। পরে আবার ঢাকায় ফিরেন দুপুর ২টায়। তিনি বলেন, ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা যাচ্ছি বিকেল ৫টার বাসে। আমি আর আমার পরিবার। মূলত আমার মেয়ে ও বাবা-মার সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে যাচ্ছি বাড়িতে।

[১১] হানিফ পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার কবির বলেন, মঙ্গলবার রাত থেকেই শেষ হয়ে গেছে সড়কের সব জ্যাম। ঈদের দিন তেমন যাত্রী নেই। অল্প কিছু যাত্রী বাড়ি ফিরছেন। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বুধবার আমাদের পাঁচটি বাস ছেড়ে গেছে গাবতলী থেকে।

[১২] এদিকে ঈদুল আযহার সকালে অনেকটাই জনমানবশূন্য থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাতিরঝিলে বাড়তে থাকে দর্শনার্থীদের ভিড়। অনেকেই বন্ধু-বান্ধব ও পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে এসেছেন হাতিরঝিলে।

[১২] বিকেলের পর হাতিরঝিলের পুরো এলাকার দুই পাশে বাড়তে থাকে ভিড়। সন্ধ্যার পর এ ভিড় আরও বাড়ে। পরিবার-পরিজন কিংবা বন্ধু-বান্ধবকে নিয়ে আড্ডায় ব্যস্ত সবাই। অনেকের মুখে মাস্ক দেখা যায়নি। সম্পাদনা : ভিকটর রোজারিও

Related Articles

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Next News BD Powered By : Code Next IT